দাড়ি; শরীয়াহ ও বিজ্ঞান
১
নারী এবং পুরুষের মধ্যে রেডিকেল ডিফারেন্স সমূহের মধ্যে দাড়িও একটি। দাড়ি একজন পুরুষের ভেরিলিটিকে নিপূণভাবে উপস্থাপন করে। দাড়িতে একজন পুরুষকে যতো সুন্দর দেখায় দাড়িহীন কাউকে তেমন মনে হয় না। বিধায় শরয়ী ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দাড়ি রাখার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। বরং ইসলামী শরীয়াহ তো দাড়ি রাখাকে ইম্পারেটিভ স্থানে রেখেছে। যা অলঙ্ঘনীয় এবং বড় অপরাধের অন্তর্ভুক্ত।
দাড়ি ছাঁটা বা শেভ করা শয়তান দ্বারা প্ররোচিত ক্রিয়া। সূরাহ নিসায় শয়তানের শপথসমূহে সে বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। শয়তান শপথ করেছিলো-
وَلأُضِلَّنَّهُمْ وَلأُمَنِّيَنَّهُمْ وَلآمُرَنَّهُمْ فَلَيُبَتِّكُنَّ آذَانَ الأَنْعَامِ وَلآمُرَنَّهُمْ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ اللّهِ وَمَن يَتَّخِذِ الشَّيْطَانَ وَلِيًّا مِّن دُونِ اللّهِ فَقَدْ خَسِرَ خُسْرَانًا مُّبِينًا
"তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব, তাদেরকে আশ্বাস দেব; তাদেরকে পশুদের কর্ণ ছেদন করতে বলব এবং তাদেরকে আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতি পরিবর্তন করতে আদেশ দেব। যে কেউ আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, সে প্রকাশ্য ক্ষতিতে পতিত হয়।" [ সুরা নিসা ৪:১১৯ ]
আয়াতে 'তাদেরকে আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতি পরিবর্তন করতে আদেশ করবো' এর ব্যাখ্যায় অনেক মুফাসসির দাড়ি কর্তনকেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অর্থাৎ দাড়ি ছাঁটা বা শেভ করাও সৃষ্টিবিকৃতি। এ মর্মে বুখারি ও মুসলিম শরীফে হযরত ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে-
"আল্লাহ্র অভিশাপ বর্ষিত হোক সে সব নারীদের উপর যারা শরীরে উল্কি অঙ্কণ করে এবং যারা অঙ্কণ করায়, আর সে সব নারীদের উপর যারা চুল, ভ্রু তুলে ফেলে এবং সে সব নারীদের উপর যারা সৌন্দর্যের জন্যে সম্মুখের দাঁত কেটে সরু করে, দাঁতের মধ্যে ফাঁক তৈরি করে, যা আল্লাহ্র সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন আনে। রাবী বলেনঃ আমি কেন তার উপর অভিশাপ করব না, যাকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অভিশাপ করেছেন? আর আল্লাহ্র কিতাবে আছেঃ “রসূল তোমাদেরকে যা দেয় তা গ্রহণ কর।(সূরাহ আল-হাশর ৫৯ : ৭)"
(সহীহ বুখারী, ৫৯৩১)
মুহাদ্দিসীনকেরাম বলেছেন যদিও এখানে নারীদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে তবুও হাদীসটি ব্যাপক। পুরুষরাও এর অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ নারীরা যেমন ভ্রু উৎক্ষেপণ করলে লা'নতপ্রাপ্ত তেমনি পুরুষরাও দাড়ি ছাঁটলে বা শেভ করলে লা'নতপ্রাপ্ত হবে। তাহলে কোরআন ও সুন্নাহ দাড়ি কর্তনকে সৃষ্টিবিকৃতি ও আল্লাহর লা'নত বা অভিশাপের উপযুক্ত কর্ম তা পরিষ্কারভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
২
দাড়ি হলো সকল নবী ও রাসূল (আলাইহিমুস সালাম) এর আদর্শ। দাড়ি হলো শি'আরে ইসলাম বা দীনের প্রতীক। সমস্ত উম্মত মুসলিমার দাড়ি রাখা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে ইজমা' বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত। এমন একজন আলেমও এ যাবতকাল খোঁজে পাওয়া যায় নি যিনি বলেছেন দাঁড়ি ছাঁটা বা শেভ করা জায়েজ। কেননা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাড়ি রাখার ব্যাপারে খুবই গুরুত্বারোপ করেছেন এবং দাড়ি রাখার তাগিদ দিয়েছেন বারবার। হাদীসের ভাণ্ডারে অসংখ্য হাদীস এ ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে নিম্নে কয়েকটি দেয়া হলো:
১," عن أبي هریرة رضي اللّٰه عنه قال: قال رسول اللّٰه صلی اللّٰه علیه وسلم: جُزُّوا الشوارب، وأرخوا اللحی، خالِفوا المجوس". (صحیح مسلم، کتاب الطهارة / باب خصال الفطرة ۱؍۱۲۹رقم:۲۶۰بیت الأفکار الدولیة
'গোঁফ ছেঁটে এবং দাঁড়ি ছেড়ে (লম্বা করে) অগ্নিপূজকদের বিরোধিতা করো।"(সহীহ মুসলিম, ২৬০)
২,"وعن ابن عمر رضي اللّٰه عنهما قال: قال رسول اللّٰه صلی اللّٰه علیه وسلم: انهکوا الشوارب وأعفوا اللحی". (صحیح البخاري، کتاب اللباس / باب إعفاء اللحی۲؍۸۷۵رقم:۵۸۹۳دار الفکر بیروت
"ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন- গোঁফ খাটো করো এবং দাড়ি লম্বা করো।"(সহীহ বুখারি,৫৮৯৩)
৩, "عن أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: خالفوا على المجوس جزوا الشوارب وأوفوا اللحى". (مسند البزار = البحر الزخار ۔13/ 90)
"তোমরা মাজূসী তথা অগ্নিপূজকদের বিরোধিতা করে গোঁফ ছাঁটো এবং দাড়ি লম্বা করো।" (মুসনাদে বাজ্জার)
৩
দাড়ি লম্বা করা মানুষের ফিতরাহ বা স্বভাবজাত বিষয়বালীর একটি। হাদীস শরীফে মানুষের দশটি ফিতরাহ উল্লেখ করা হয়েছে। তার মধ্যে গোঁফ ছাঁটা ও দাড়ি লম্বা করাও অন্তর্ভুক্ত।
হযরত ‘আয়িশাহ্(রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, দশটি কাজ ফিতরাতের অন্তর্ভুক্তঃ মোচ খাটো করা, দাড়ি লম্বা করা, মিসওয়াক করা, নাকে পানি দিয়ে ঝাড়া, নখ কাটা এবং আঙ্গুলের গিরাসমূহ ধোয়া, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নাভীর নীচের পশম মুন্ডন করা এবং পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা। যাকারিয়্যা বলেন, হাদীসের রাবী মুস‘আব বলেন, দশমটির কথা আমি ভুলে গিয়েছি। সম্ভবতঃ সেটি হবে কুলি করা।
(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৪৯২)
সুতারং দাড়ি রাখার শরয়ী দৃষ্টিকোণ প্রমাণিত হলো এবং তা কেনো ওয়াজিব কোরআন ও সুন্নাহ থেকে সে ইসতিদলাল দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়েগেলো। অতএব, একজন মুসলমান কীভাবে সাহস করে দাড়ি কর্তন করার? ইহা যে কবীরা গোনাহ এবং এমন কবীরা গোনাহ যা সর্বদা লিখাই হচ্ছে। নামাজের হালতে, অজুর হালতে, হজ্জ করাবস্থায় সবসময় এই পাপ আমলনামায় লিখা হচ্ছে। শয়তানের ধোঁকা ও কু-প্রবৃত্তির তাড়নায় নিজেদর আখেরাত বরবাদ করে ফেলছি আমরা অথচ বুঝতেই পারছি না।
দাড়ি না রাখলে যে গোনাহগুলো আমলনামায় লিপিবদ্ধ হয় আশরাফ আলী থানবী (রাহিমাহুল্লাহ) খুবই সুন্দরভাবে তা বলেছেন।
১, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)'র আদেশের বিরোধিতা। ২, আম্বিয়াগণের (আলাইহিমুস সালাম) আদর্শ ও ফিতরাতের বিরুদ্ধাবস্থান। ৩, গোনাহের প্রসার করা। কেননা ইহা এমন এক পাপ যা মানুষের চোখের আড়াল নয়। আর গোনাহের প্রচার স্বয়ং একটি গোনাহ। ৪, আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি বিকৃতি। ৫, কাফেরদের সাথে সাদৃশ্য। ৬, নারীদের সাথে সামঞ্জস্য। হাদীসে যা নিষেধ করা হয়েছে এবং লা'নত দেয়া হয়েছে। ৭, চলমান ও সর্বদার গোনাহ। অর্থাৎ মানুষ যতোক্ষণ এতে নিয়োজিত থাকে ততোক্ষণ তা চলমান। ৮, ইসলাম ও দীনের শি'আর বা প্রতীকের সাথে বিদ্রোহ।ইত্যাদি।(সূত্র-অনলাইন)
৪
এখন একটি প্রশ্ন থেকে যায়। দাড়ি লম্বা করবো তা ঠিক। কিন্তু কতটুকু পরিমাণ লম্বা করা ওয়াজিব? রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)'র দাড়িই বা কী পরিমাণ লম্বা ছিলো? ফুকাহাকেরাম এর উত্তরে বলেছেন- দাড়ি একমুষ্টির কম রাখা আর শেভ করা উভয়ই কবীরা গোনাহ। দাড়ি একমুষ্টি বা তারচেয়ে বেশী লম্বা করা ওয়াজিব।
কেননা নবিজীর দাড়ি লম্বা ছিলো। এক সাহাবী বর্ণনা করেন- রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন চিন্তিত হতেন, তখন তিনি নিজ হাতে দাড়ি ধরে তা দেখতেন ৷(কানজুল উম্মাল ১/৭০১ পৃঃ)
তাছাড়া আবূ মা’মার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমরা খাব্বাব (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি যুহর ও ‘আসরের সালাতে কিরাআত পড়তেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা কিভাবে বুঝতে পারতেন? তিনি বললেন, তাঁর দাড়ির নড়াচড়া দেখে।(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৭৪৬) এ থেকে বুঝা যায় রাসুলুল্লাহ'র দাড়ি লম্বা ছিলো এবং নড়াচড়া করতো যা একমুষ্টির কম হলে সম্ভব নয়। তবে নবিজী একমুষ্টি রেখে বাকি দাড়ি কেটেছেন এ মর্মে কোনো বর্ণনা না থাকলেও সাহাবীদের আমল থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।
১, হজরত মারওয়ান ইবনে সালেমে মুকাফা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর (রা.) কে দেখেছি, তিনি নিজের দাড়ি মুঠ করে ধরে বাকিটুকু কেটে ফেলতেন ৷(আবু দাউদ ২/৭৬৫ পৃঃ)
২, হজরত ইবনে উমর (রা.) হজ ও উমরার সময় নিজ দাড়ি মুঠ করে ধরে বাইরের অংশটুকু কেটে ফেলতেন৷
(সহীহ বুখারী ৭/৮৩ পৃঃ)
৩. আবু জুব’আ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত আবু হুরায়রা(রা.) স্বীয় দাড়ি মুঠ করে ধরে বাইরের অংশটুকু কেটে ফেলতেন।(ফতহুল বারি ১০/৬৩২ পৃঃ)
৪. হজরত হাসান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁরা (সাহাবিগণ) মুঠের বাইরের অংশটুকু কেটে ছোট করাকে অনুমোদন করতেন ৷(মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ৫/২২৬ পৃঃ)
হাকিমুল উম্মাত আশরাফ আলী থানবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন- একমুষ্টির কম দাড়ি রাখা হারাম এবং ইহা অন্যান্য কবীরা গোনাহ থেকেও নিকৃষ্ট। কেননা ইহা ইসলামকে প্রকাশ্যভাবে তাচ্ছিল্য করে এবং কোনো প্রকার রাখঢাক ছাড়া গোনাহের প্রচার ও প্রসারকারী ক্ষমার উপযুক্ত নয় (যতক্ষণ না তাওবা করে ফিরে আসে)। আর দাড়ি কাটার গোনাহ সবসময় সঙ্গে লেগেই থাকে। এমনকি সালাতসহ অন্যান্য ইবাদত করার সময়ও গোনাহে লিপ্ত থাকতে হয়।
۔( "ڈاڑھی منڈانا کبیرہ گناہ اور اس کا اس کا مذاق اڑانا کفر ہے"ص 10،مکتبہ حکیم الامت)
৫
শরীয়তের কোনো বিধানকেই বিজ্ঞান দিয়ে জাস্টিফাই করার প্রয়োজন মনে করি না। কেননা শরীয়ত হলো আল্লাহ প্রদত্ত। বিন্দুমাত্র সন্দেহ পোষণ করা যাবে না। বিজ্ঞান 'সমর্থন' করুক বা না-ই করুক আমাদেরকে তা মানতে হবে। রাসূল যা করেছেন এবং বলেছেন আমাদেরকে তা-ই গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন- وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
"রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।" [ সুরা হাশর ৫৯:৭ ]
তবুও যেহেতু আল্লাহর কোনো হুকুম ও রাসূলের কোনো কাজই প্রজ্ঞা বহির্ভূত নয় সেটা বুঝাতে গিয়ে বলতে হচ্ছে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকেও দাড়ি রাখার মধ্যে রয়েছে বিরাট উপকারিতা। যুক্তরাষ্ট্রের একটি হসপিটালের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এর প্রমাণ।
‘জার্নাল অব হসপিটাল ইনফেকশনে’ প্রকাশিত এই গবেষণার ফলে বলা হচ্ছে, দাড়িওয়ালাদের চেয়ে বরং দাড়ি কামানো পুরুষের মুখেই বেশি রোগ-জীবাণু পাওয়া গেছে।
গবেষকরা বলছেন, মেথিসিলিন-রেসিস্ট্যান্ট স্ট্যাফ অরিয়াস (এমআরএসএ) বলে যে জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী, সেটি দাড়িওয়ালাদের চাইতে দাড়ি কামানোদের মুখে তিনগুণ বেশি মাত্রায় পাওয়া গেছে। এর কারণ কি? গবেষকরা বলছেন, দাড়ি কামাতে গিয়ে মুখের চামড়ায় যে হালকা ঘষা লাগে, তা ব্যাকটেরিয়ার বাসা বাঁধার জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। অন্যদিকে দাড়ি সংক্রমণ ঠেকাতে সাহায্য করে। বিবিসির “ট্রাস্ট মি, আই অ্যাম এ ডক্টর” অনুষ্ঠানে বেশ কিছু পুরুষের দাড়ি থেকে ব্যাকটেরিয়ার নমূনা সংগ্রহ করে একই ধরণের পরীক্ষা চালানো হয়। ইউনিভার্সিটি কলেজ, লন্ডনের গবেষক ড: অ্যাডাম রবার্ট এই গবেষণার ফল দেখে বলছেন, দাড়িতে এমন কিছু ‘মাইক্রোব’ আছে, যা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে সাহায্য করে। (বিবিসি নিউজ, ২২ জানুয়ারি ২০১৬)
তাই আসুন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অনুসরণ করি। নিজেদের খেয়ালখুশিকে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে শরীয়তে আয়নায় নিজেদেরকে হাজির করে ইহকাল ও পরকালকে সুন্দর ও সুঠাম করার কাজে নিয়োজিত হই। আল্লাহ আমাদেরকে পরিপূর্ণভাবে দীনের মধ্যে প্রবেশ করার তাওফিক দান করুন। আ মী ন
১
নারী এবং পুরুষের মধ্যে রেডিকেল ডিফারেন্স সমূহের মধ্যে দাড়িও একটি। দাড়ি একজন পুরুষের ভেরিলিটিকে নিপূণভাবে উপস্থাপন করে। দাড়িতে একজন পুরুষকে যতো সুন্দর দেখায় দাড়িহীন কাউকে তেমন মনে হয় না। বিধায় শরয়ী ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দাড়ি রাখার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। বরং ইসলামী শরীয়াহ তো দাড়ি রাখাকে ইম্পারেটিভ স্থানে রেখেছে। যা অলঙ্ঘনীয় এবং বড় অপরাধের অন্তর্ভুক্ত।
দাড়ি ছাঁটা বা শেভ করা শয়তান দ্বারা প্ররোচিত ক্রিয়া। সূরাহ নিসায় শয়তানের শপথসমূহে সে বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। শয়তান শপথ করেছিলো-
وَلأُضِلَّنَّهُمْ وَلأُمَنِّيَنَّهُمْ وَلآمُرَنَّهُمْ فَلَيُبَتِّكُنَّ آذَانَ الأَنْعَامِ وَلآمُرَنَّهُمْ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ اللّهِ وَمَن يَتَّخِذِ الشَّيْطَانَ وَلِيًّا مِّن دُونِ اللّهِ فَقَدْ خَسِرَ خُسْرَانًا مُّبِينًا
"তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব, তাদেরকে আশ্বাস দেব; তাদেরকে পশুদের কর্ণ ছেদন করতে বলব এবং তাদেরকে আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতি পরিবর্তন করতে আদেশ দেব। যে কেউ আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, সে প্রকাশ্য ক্ষতিতে পতিত হয়।" [ সুরা নিসা ৪:১১৯ ]
আয়াতে 'তাদেরকে আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতি পরিবর্তন করতে আদেশ করবো' এর ব্যাখ্যায় অনেক মুফাসসির দাড়ি কর্তনকেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অর্থাৎ দাড়ি ছাঁটা বা শেভ করাও সৃষ্টিবিকৃতি। এ মর্মে বুখারি ও মুসলিম শরীফে হযরত ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে-
"আল্লাহ্র অভিশাপ বর্ষিত হোক সে সব নারীদের উপর যারা শরীরে উল্কি অঙ্কণ করে এবং যারা অঙ্কণ করায়, আর সে সব নারীদের উপর যারা চুল, ভ্রু তুলে ফেলে এবং সে সব নারীদের উপর যারা সৌন্দর্যের জন্যে সম্মুখের দাঁত কেটে সরু করে, দাঁতের মধ্যে ফাঁক তৈরি করে, যা আল্লাহ্র সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন আনে। রাবী বলেনঃ আমি কেন তার উপর অভিশাপ করব না, যাকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অভিশাপ করেছেন? আর আল্লাহ্র কিতাবে আছেঃ “রসূল তোমাদেরকে যা দেয় তা গ্রহণ কর।(সূরাহ আল-হাশর ৫৯ : ৭)"
(সহীহ বুখারী, ৫৯৩১)
মুহাদ্দিসীনকেরাম বলেছেন যদিও এখানে নারীদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে তবুও হাদীসটি ব্যাপক। পুরুষরাও এর অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ নারীরা যেমন ভ্রু উৎক্ষেপণ করলে লা'নতপ্রাপ্ত তেমনি পুরুষরাও দাড়ি ছাঁটলে বা শেভ করলে লা'নতপ্রাপ্ত হবে। তাহলে কোরআন ও সুন্নাহ দাড়ি কর্তনকে সৃষ্টিবিকৃতি ও আল্লাহর লা'নত বা অভিশাপের উপযুক্ত কর্ম তা পরিষ্কারভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
২
দাড়ি হলো সকল নবী ও রাসূল (আলাইহিমুস সালাম) এর আদর্শ। দাড়ি হলো শি'আরে ইসলাম বা দীনের প্রতীক। সমস্ত উম্মত মুসলিমার দাড়ি রাখা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে ইজমা' বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত। এমন একজন আলেমও এ যাবতকাল খোঁজে পাওয়া যায় নি যিনি বলেছেন দাঁড়ি ছাঁটা বা শেভ করা জায়েজ। কেননা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাড়ি রাখার ব্যাপারে খুবই গুরুত্বারোপ করেছেন এবং দাড়ি রাখার তাগিদ দিয়েছেন বারবার। হাদীসের ভাণ্ডারে অসংখ্য হাদীস এ ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে নিম্নে কয়েকটি দেয়া হলো:
১," عن أبي هریرة رضي اللّٰه عنه قال: قال رسول اللّٰه صلی اللّٰه علیه وسلم: جُزُّوا الشوارب، وأرخوا اللحی، خالِفوا المجوس". (صحیح مسلم، کتاب الطهارة / باب خصال الفطرة ۱؍۱۲۹رقم:۲۶۰بیت الأفکار الدولیة
'গোঁফ ছেঁটে এবং দাঁড়ি ছেড়ে (লম্বা করে) অগ্নিপূজকদের বিরোধিতা করো।"(সহীহ মুসলিম, ২৬০)
২,"وعن ابن عمر رضي اللّٰه عنهما قال: قال رسول اللّٰه صلی اللّٰه علیه وسلم: انهکوا الشوارب وأعفوا اللحی". (صحیح البخاري، کتاب اللباس / باب إعفاء اللحی۲؍۸۷۵رقم:۵۸۹۳دار الفکر بیروت
"ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন- গোঁফ খাটো করো এবং দাড়ি লম্বা করো।"(সহীহ বুখারি,৫৮৯৩)
৩, "عن أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: خالفوا على المجوس جزوا الشوارب وأوفوا اللحى". (مسند البزار = البحر الزخار ۔13/ 90)
"তোমরা মাজূসী তথা অগ্নিপূজকদের বিরোধিতা করে গোঁফ ছাঁটো এবং দাড়ি লম্বা করো।" (মুসনাদে বাজ্জার)
৩
দাড়ি লম্বা করা মানুষের ফিতরাহ বা স্বভাবজাত বিষয়বালীর একটি। হাদীস শরীফে মানুষের দশটি ফিতরাহ উল্লেখ করা হয়েছে। তার মধ্যে গোঁফ ছাঁটা ও দাড়ি লম্বা করাও অন্তর্ভুক্ত।
হযরত ‘আয়িশাহ্(রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, দশটি কাজ ফিতরাতের অন্তর্ভুক্তঃ মোচ খাটো করা, দাড়ি লম্বা করা, মিসওয়াক করা, নাকে পানি দিয়ে ঝাড়া, নখ কাটা এবং আঙ্গুলের গিরাসমূহ ধোয়া, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নাভীর নীচের পশম মুন্ডন করা এবং পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা। যাকারিয়্যা বলেন, হাদীসের রাবী মুস‘আব বলেন, দশমটির কথা আমি ভুলে গিয়েছি। সম্ভবতঃ সেটি হবে কুলি করা।
(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৪৯২)
সুতারং দাড়ি রাখার শরয়ী দৃষ্টিকোণ প্রমাণিত হলো এবং তা কেনো ওয়াজিব কোরআন ও সুন্নাহ থেকে সে ইসতিদলাল দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়েগেলো। অতএব, একজন মুসলমান কীভাবে সাহস করে দাড়ি কর্তন করার? ইহা যে কবীরা গোনাহ এবং এমন কবীরা গোনাহ যা সর্বদা লিখাই হচ্ছে। নামাজের হালতে, অজুর হালতে, হজ্জ করাবস্থায় সবসময় এই পাপ আমলনামায় লিখা হচ্ছে। শয়তানের ধোঁকা ও কু-প্রবৃত্তির তাড়নায় নিজেদর আখেরাত বরবাদ করে ফেলছি আমরা অথচ বুঝতেই পারছি না।
দাড়ি না রাখলে যে গোনাহগুলো আমলনামায় লিপিবদ্ধ হয় আশরাফ আলী থানবী (রাহিমাহুল্লাহ) খুবই সুন্দরভাবে তা বলেছেন।
১, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)'র আদেশের বিরোধিতা। ২, আম্বিয়াগণের (আলাইহিমুস সালাম) আদর্শ ও ফিতরাতের বিরুদ্ধাবস্থান। ৩, গোনাহের প্রসার করা। কেননা ইহা এমন এক পাপ যা মানুষের চোখের আড়াল নয়। আর গোনাহের প্রচার স্বয়ং একটি গোনাহ। ৪, আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি বিকৃতি। ৫, কাফেরদের সাথে সাদৃশ্য। ৬, নারীদের সাথে সামঞ্জস্য। হাদীসে যা নিষেধ করা হয়েছে এবং লা'নত দেয়া হয়েছে। ৭, চলমান ও সর্বদার গোনাহ। অর্থাৎ মানুষ যতোক্ষণ এতে নিয়োজিত থাকে ততোক্ষণ তা চলমান। ৮, ইসলাম ও দীনের শি'আর বা প্রতীকের সাথে বিদ্রোহ।ইত্যাদি।(সূত্র-অনলাইন)
৪
এখন একটি প্রশ্ন থেকে যায়। দাড়ি লম্বা করবো তা ঠিক। কিন্তু কতটুকু পরিমাণ লম্বা করা ওয়াজিব? রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)'র দাড়িই বা কী পরিমাণ লম্বা ছিলো? ফুকাহাকেরাম এর উত্তরে বলেছেন- দাড়ি একমুষ্টির কম রাখা আর শেভ করা উভয়ই কবীরা গোনাহ। দাড়ি একমুষ্টি বা তারচেয়ে বেশী লম্বা করা ওয়াজিব।
কেননা নবিজীর দাড়ি লম্বা ছিলো। এক সাহাবী বর্ণনা করেন- রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন চিন্তিত হতেন, তখন তিনি নিজ হাতে দাড়ি ধরে তা দেখতেন ৷(কানজুল উম্মাল ১/৭০১ পৃঃ)
তাছাড়া আবূ মা’মার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমরা খাব্বাব (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি যুহর ও ‘আসরের সালাতে কিরাআত পড়তেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা কিভাবে বুঝতে পারতেন? তিনি বললেন, তাঁর দাড়ির নড়াচড়া দেখে।(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৭৪৬) এ থেকে বুঝা যায় রাসুলুল্লাহ'র দাড়ি লম্বা ছিলো এবং নড়াচড়া করতো যা একমুষ্টির কম হলে সম্ভব নয়। তবে নবিজী একমুষ্টি রেখে বাকি দাড়ি কেটেছেন এ মর্মে কোনো বর্ণনা না থাকলেও সাহাবীদের আমল থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।
১, হজরত মারওয়ান ইবনে সালেমে মুকাফা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর (রা.) কে দেখেছি, তিনি নিজের দাড়ি মুঠ করে ধরে বাকিটুকু কেটে ফেলতেন ৷(আবু দাউদ ২/৭৬৫ পৃঃ)
২, হজরত ইবনে উমর (রা.) হজ ও উমরার সময় নিজ দাড়ি মুঠ করে ধরে বাইরের অংশটুকু কেটে ফেলতেন৷
(সহীহ বুখারী ৭/৮৩ পৃঃ)
৩. আবু জুব’আ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত আবু হুরায়রা(রা.) স্বীয় দাড়ি মুঠ করে ধরে বাইরের অংশটুকু কেটে ফেলতেন।(ফতহুল বারি ১০/৬৩২ পৃঃ)
৪. হজরত হাসান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁরা (সাহাবিগণ) মুঠের বাইরের অংশটুকু কেটে ছোট করাকে অনুমোদন করতেন ৷(মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ৫/২২৬ পৃঃ)
হাকিমুল উম্মাত আশরাফ আলী থানবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন- একমুষ্টির কম দাড়ি রাখা হারাম এবং ইহা অন্যান্য কবীরা গোনাহ থেকেও নিকৃষ্ট। কেননা ইহা ইসলামকে প্রকাশ্যভাবে তাচ্ছিল্য করে এবং কোনো প্রকার রাখঢাক ছাড়া গোনাহের প্রচার ও প্রসারকারী ক্ষমার উপযুক্ত নয় (যতক্ষণ না তাওবা করে ফিরে আসে)। আর দাড়ি কাটার গোনাহ সবসময় সঙ্গে লেগেই থাকে। এমনকি সালাতসহ অন্যান্য ইবাদত করার সময়ও গোনাহে লিপ্ত থাকতে হয়।
۔( "ڈاڑھی منڈانا کبیرہ گناہ اور اس کا اس کا مذاق اڑانا کفر ہے"ص 10،مکتبہ حکیم الامت)
৫
শরীয়তের কোনো বিধানকেই বিজ্ঞান দিয়ে জাস্টিফাই করার প্রয়োজন মনে করি না। কেননা শরীয়ত হলো আল্লাহ প্রদত্ত। বিন্দুমাত্র সন্দেহ পোষণ করা যাবে না। বিজ্ঞান 'সমর্থন' করুক বা না-ই করুক আমাদেরকে তা মানতে হবে। রাসূল যা করেছেন এবং বলেছেন আমাদেরকে তা-ই গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন- وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
"রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।" [ সুরা হাশর ৫৯:৭ ]
তবুও যেহেতু আল্লাহর কোনো হুকুম ও রাসূলের কোনো কাজই প্রজ্ঞা বহির্ভূত নয় সেটা বুঝাতে গিয়ে বলতে হচ্ছে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকেও দাড়ি রাখার মধ্যে রয়েছে বিরাট উপকারিতা। যুক্তরাষ্ট্রের একটি হসপিটালের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এর প্রমাণ।
‘জার্নাল অব হসপিটাল ইনফেকশনে’ প্রকাশিত এই গবেষণার ফলে বলা হচ্ছে, দাড়িওয়ালাদের চেয়ে বরং দাড়ি কামানো পুরুষের মুখেই বেশি রোগ-জীবাণু পাওয়া গেছে।
গবেষকরা বলছেন, মেথিসিলিন-রেসিস্ট্যান্ট স্ট্যাফ অরিয়াস (এমআরএসএ) বলে যে জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী, সেটি দাড়িওয়ালাদের চাইতে দাড়ি কামানোদের মুখে তিনগুণ বেশি মাত্রায় পাওয়া গেছে। এর কারণ কি? গবেষকরা বলছেন, দাড়ি কামাতে গিয়ে মুখের চামড়ায় যে হালকা ঘষা লাগে, তা ব্যাকটেরিয়ার বাসা বাঁধার জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। অন্যদিকে দাড়ি সংক্রমণ ঠেকাতে সাহায্য করে। বিবিসির “ট্রাস্ট মি, আই অ্যাম এ ডক্টর” অনুষ্ঠানে বেশ কিছু পুরুষের দাড়ি থেকে ব্যাকটেরিয়ার নমূনা সংগ্রহ করে একই ধরণের পরীক্ষা চালানো হয়। ইউনিভার্সিটি কলেজ, লন্ডনের গবেষক ড: অ্যাডাম রবার্ট এই গবেষণার ফল দেখে বলছেন, দাড়িতে এমন কিছু ‘মাইক্রোব’ আছে, যা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে সাহায্য করে। (বিবিসি নিউজ, ২২ জানুয়ারি ২০১৬)
তাই আসুন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অনুসরণ করি। নিজেদের খেয়ালখুশিকে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে শরীয়তে আয়নায় নিজেদেরকে হাজির করে ইহকাল ও পরকালকে সুন্দর ও সুঠাম করার কাজে নিয়োজিত হই। আল্লাহ আমাদেরকে পরিপূর্ণভাবে দীনের মধ্যে প্রবেশ করার তাওফিক দান করুন। আ মী ন

0 মন্তব্যসমূহ